মৌলভীবাজার, ১ জুলাই ২০২৬: জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সিলেটের মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর আব্দুল মতিন (৫৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন ভাই, বোন ও ভাবিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়শা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।
পুলিশ জানায়, নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তাঁর ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। গত ২৮ জুন আদালতে আব্দুল মতিনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। এই সাক্ষ্যকে কেন্দ্র করে ভাই আব্দুল মজিদসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
হত্যাকাণ্ড যেভাবে ঘটে গত ২৮ জুন রবিবার সকালে আদালতে সাক্ষ্য দিতে বাড়ি থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা তাঁকে অনুসরণ করে। পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের পাকা রাস্তার ঢালে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় স্বামী বাড়ি না ফেরায় স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির কাছেই হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুন অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ থেকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সমাজে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।






