সুরমা টাইমস ডেস্কঃ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যুগোপযোগী ও যৌক্তিক কাঠামো প্রস্তাব করবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
মন্ত্রীর বক্তব্য
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রী বলেন, “দরগাহর উন্নয়ন ও দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা অতীত নিয়ে বিতর্কে যেতে চাই না, সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, নতুন কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কমিটি নিয়ম অনুযায়ী দানবাক্সের টাকা গণনা করে মাজারের চলমান ব্যাংক হিসাবে জমা রাখবে।
কমিটির সদস্যরা
- বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন:
- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
- বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান
- সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী
- সিলেটের ডিআইজি জিল্লুর রহমান
- সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী
- জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম
- পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক
- মোতোয়াল্লি পরিবারের দুজন সদস্য
- মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুজন প্রতিনিধি
কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা।
আরিফুল হক চৌধুরীকে বাদ দিয়ে সমালোচনা
কমিটিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে অন্তর্ভুক্ত না করায় সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর শেষে আরিফুল হক চৌধুরী মাজার ইস্যুতে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের কথা বলেছিলেন।
এ নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ আহমদ রনিসহ অনেকে ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিকে বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের দানবাক্স সিলগালা করা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পর এই কমিটি গঠনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।






