সুরমা টাইমস ডেস্কঃ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে প্রাপ্ত টাকা কোনো আলাদা মাজার অ্যাকাউন্টে নয়, বরং জেলা প্রশাসক ও ওয়াক্ফ ইন্সপেক্টরের যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের একটি ভাইরাল ফোনালাপ থেকে মঙ্গলবার (২৩ জুন) এ তথ্য উঠে এসেছে। ফোনালাপে তিনি মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
সারওয়ার আলম যা বলেছেন
তিনি বলেন, “এখানে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা ও ১টি অলংকার পাওয়া গেছে। প্রশাসনের ফান্ড থেকে আরও ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এটা জেলা প্রশাসক ও ওয়াক্ফ ইন্সপেক্টরের যৌথ অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে সোনালি ব্যাংকে। আমরা চেয়েছিলাম মাজার কমিটির একজনকে রাখতে, কিন্তু সুযোগ হয়নি। তিনজনের যৌথ অ্যাকাউন্ট করতে চেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত এভাবেই রাখা হয়েছে। খরচ কীভাবে হবে, সেটা পরবর্তী প্রশাসক, নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রীরা পলিসি করে ঠিক করবেন।”
প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য গণনা
এর আগে সোমবার (২২ জুন) মাজারের সিলগাল করা ডেগ ও প্রশাসনের নতুন দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রেওয়াজ ভেঙে এই গণনায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা ও সামান্য স্বর্ণ পাওয়া যায়। পরে প্রশাসন থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ করে মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা করা হয়।
প্রতিক্রিয়া
মাজারের খাদেম ও ভক্তদের অনেকে এখন প্রশ্ন তুলছেন, টাকা কেন মাজারের নামে আলাদা অ্যাকাউন্টে রাখা হলো না। কেউ কেউ বলছেন, স্বচ্ছতার কথা বলে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অন্যদিকে স্বচ্ছতার পক্ষে যুক্তি দিয়ে কেউ কেউ বলছেন, এখন অন্তত হিসাবের একটা শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় সিলেটের মাজারকেন্দ্রিক ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে টাকার ব্যবস্থাপনা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সিলেটবাসী এখন চোখ রেখেছেন নতুন জেলা প্রশাসকের দিকে—তিনি এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন।






