সুরমা টাইমস ডেস্কঃ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ডেগ সিলগালার ঘটনার পর সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করায় রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছে ‘ষড়যন্ত্র’, কেউ বলছে ‘সম্মান ক্ষুণ্ন’, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েই।
সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ বলেন, মাজারের দানের অর্থে স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নেওয়ায় একটি প্রভাবশালী সুবিধাভোগী গোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান।
সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, সারওয়ার আলম জনবান্ধব কর্মকর্তা ছিলেন। তার মতো একজন কর্মকর্তাকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়ায় তার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনে এখনো দলীয় প্রভাবের ছাপ রয়েছে।
অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের নেতারা এ ঘটনায় ‘মর্মাহত’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সংগঠনের মহানগর নেতারা বলছেন, কোনো তদন্ত ছাড়াই জনপ্রিয় এক কর্মকর্তাকে সরানো হয়েছে, যার পেছনে ‘অপশক্তির’ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
তবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক নেতা ভিন্ন মত তুলে ধরে বলেন, ডিসি কিছু ভালো উদ্যোগ নিলেও কিছু সিদ্ধান্ত ছিল একক ও আলোচনাহীন, যা বিতর্ক তৈরি করেছে।
এদিকে ডিসি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন হয়েছে। বক্তারা দাবি করেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে সরানো হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বড় আন্দোলনের কর্মসূচি আসতে পারে।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে ‘জনস্বার্থে’ প্রত্যাহার করে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তবে কেন তাকে সরানো হলো বা নতুন ডিসি কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এ অবস্থায় সিলেটজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা। বিশেষ করে মাজার ইস্যু, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে ঘটনাটি নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।






