মাজারের দানের ডেগে হাত পুড়ল সাদাপাথর লুট ঠেকাতে আনা ডিসি সারওয়ার আলমের

মাজারের দানের ডেগে হাত পুড়ল সাদাপাথর লুট ঠেকাতে আনা ডিসি সারওয়ার আলমের - Surma Times | Sylhet News

মাত্র ১০ মাসেই সরিয়ে দিল সরকার!

মাজারের দানের ডেগে হাত পুড়ল সাদাপাথর লুট ঠেকাতে আনা ডিসি সারওয়ার আলমের - Surma Times | Sylhet Newsসুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহার করে নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপনে ‘জনস্বার্থে’ বলে তাকে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবারই তাকে ঢাকায় যোগ দিতে হবে।

গত বছর আগস্টে সাদাপাথরের পাথর লুটের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে তৎকালীন ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে সরিয়ে সারওয়ার আলমকে সিলেটে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ১০ মাসের মাথায় তাকেও ফিরিয়ে নেওয়া হলো। সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, প্রত্যাহারের আদেশে নতুন কোনো জেলা প্রশাসকের নাম ঘোষণা করা হয়নি। মাঠ প্রশাসনের নিয়ম ভেঙে এমন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করার উদ্যোগকে। গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দানবাক্সে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন। ১৮ জুন নতুন দানবাক্স বসানো হয় এবং পুরনো তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করা হয়। আনসার মোতায়েন ও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

এই পদক্ষেপের পরই মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। রোববার দেশ-বিদেশের ৬৭ জন বিশিষ্ট সিলেটি নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মাজারের খাদিম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, “এটা মাজার ও অলি-আউলিয়া বিরোধী কর্মকাণ্ড। দানের টাকা খাদেমরা একা নেন না, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নেও ব্যয় হয়। জোর করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ঠিক হয়নি।”

ডিসি সারওয়ার আলম অবশ্য দাবি করেছিলেন, দানের টাকা পাবলিক সম্পত্তি। অনিয়ম দূর করে স্বচ্ছতা আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টাকা সরকার নেবে না, সব মাজারের উন্নয়নে ব্যয় হবে বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যা জনমনে আস্থা তৈরি করতে পারেনি।

সারওয়ার আলম সিলেটে আসার পর প্রথম দিকে কিছু উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা পেয়েছিলেন। ফুটপাত থেকে হকার সরানো, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ, ওসমানী হাসপাতাল দালালমুক্ত করা—এসব নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ উদ্যোগই স্থায়ী হয়নি। কয়েক মাস পর সব আগের মতোই ফিরে যায়।

সাদাপাথর লুটের তদন্ত রিপোর্ট আজও প্রকাশ করতে পারেননি তিনি। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণে ধীরগতি, ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার আশ্বাস বাস্তবায়নে উদ্যোগহীনতা—এসব নিয়েও তীব্র সমালোচনায় পড়েন। ফুটপাত ও কিনব্রিজ আবার হকারদের দখলে চলে যাচ্ছে।

একসময় র‍্যাবের আলোচিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে পরিচিত সারওয়ার আলমের এই প্রত্যাহারকে অনেকে ‘নীরব সরিয়ে দেওয়া’ হিসেবে দেখছেন। মাজার কাণ্ডে জনরোষ আরও বাড়লে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারত—এমন আশঙ্কায় সরকার তাকে দ্রুত সরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ না করেই এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি করবে কি না, সেটা নিয়েও আলোচনা চলছে। সিলেটবাসী এখন অপেক্ষায়—কে আসছেন নতুন ডিসি হয়ে, আর কতদিনে ফিরবে সিলেটের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article