সুরমা টাইমস ডেস্কঃ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের নজরদারিতে সিসি টিভি ক্যামেরা বসিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর আগে মাজারের ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নির্দেশনায় মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্সের উপর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসানো হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। জেলা প্রশাসন জানায়, নতুন সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে দানবাক্সের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাজারে দানের টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারার অনিয়ম চলে আসছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) অবিবাহিত ছিলেন, তাঁর কোনো উত্তরাধিকার নেই। এখানকার দান পাবলিক সম্পত্তি। প্রশাসন এ টাকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। দানের কোনো টাকা সরকার নেবে না। সব টাকা মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।”
তিনি আরও জানান, মাজারের উন্নয়নে একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এজন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে খাদেম, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিনিধিসহ ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
প্রশাসনের এ উদ্যোগকে বাড়াবাড়ি ও জোরজবরদস্তি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারসংশ্লিষ্ট খাদেম ও ভক্তরা। ডেগ সিলগালার পর বৃহস্পতিবার রাতে মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তরা বিক্ষোভ করেন এবং ‘লালে লাল বাবা শাহজালাল’ স্লোগান দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অনুসারী বলেন, “প্রায় সাতশ বছর ধরে যে ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, তা বিনষ্ট করা হচ্ছে।”
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাজার এলাকায় মদ-গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
জেলা প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ মাজারে দান-সাদকার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দর্শনার্থীদের আস্থা অর্জন এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য নেওয়া হয়েছে।






