সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক কমপ্লেক্সে রূপান্তরিত করা হবে। একই সঙ্গে মাজারে আসা দান-মানতের টাকার হিসাবে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেছেন, এখন থেকে দানবাক্স ছাড়া আর কোনোভাবে টাকা নেওয়া যাবে না। হাতে হাতে টাকা গ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাজার উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মাজার, মাদ্রাসা ও মসজিদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, মাজারে প্রতিদিন যে টাকা আসে, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। কে টাকা কালেকশন করে, কে বস্তা করে নিয়ে যায়, সেটাও অজানা। এখন থেকে এই টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা করতে হবে। মাজার কমিটি ও ওয়াকফ প্রশাসন যৌথভাবে হিসাব রাখবে। দানবাক্সের ছবি দুই পক্ষের কাছে থাকবে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে ১৫ দিন পর তালা খোলা হবে। এরপর প্রতি মাসে তালা খুলে আয়ের পরিমাণ গণনা করা হবে এবং সেই হিসাব মিডিয়াসহ সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, আয়ের হিসাব জনগণের জানার অধিকার আছে। কারণ এটি জনগণের দানের টাকা। আগে আয়ের হিসাব স্পষ্ট করতে হবে, এরপর খরচের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। সরকার দান বা মানতের টাকা নেওয়ার কোনো অবকাশ রাখেনি। তবে জনগণের দেওয়া এই সম্পদের হিসাব অবশ্যই থাকতে হবে।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, মাজার এলাকায় পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখার জন্য মিউজিয়ামও নেই। প্রতিদিন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। পরিচ্ছন্নতার অভাবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। শিগগিরই নিরাপত্তা জোরদার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও টয়লেটের সমস্যার সমাধান করা হবে। মহাপরিকল্পনার আওতায় নান্দনিক মসজিদ নির্মাণ, মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান, লাইব্রেরি স্থাপন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা করে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণে সবাই একমত। সিউকের প্রথম প্রকল্প হবে মাজারকেন্দ্রিক। পরে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাজারের নিরাপত্তা জোরদার করবে। সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও টয়লেটের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। মানতের টাকার রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতি মাসে আয়ের হিসাব দেখবে প্রশাসন। দানবাক্সের টাকা লকারে রাখা হবে এবং চাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে থাকবে। এ ছাড়া ভূমির ডিজিটাল সার্ভে করা হবে।
সভায় সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






