জৈন্তাপুরের দ্বীনি আলো নিভে গেল! মাওলানা আব্দুল জব্বার লামনীগ্রামীর ইন্তেকাল

জৈন্তাপুরের দ্বীনি আলো নিভে গেল! মাওলানা আব্দুল জব্বার লামনীগ্রামীর ইন্তেকাল - Surma Times | Sylhet News

জৈন্তাপুরের দ্বীনি আলো নিভে গেল! মাওলানা আব্দুল জব্বার লামনীগ্রামীর ইন্তেকাল - Surma Times | Sylhet Newsশাহিদ হাতিমীঃ সিলেট-জৈন্তাপুরের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম লামনীগ্রাম মাদরাসার মুহতামিম আলহাজ্ব মাওলানা শায়খ আব্দুল জব্বার লামনীগ্রামী আর নেই। ২০২৬ সালের ১১ জুন দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

তাঁর অকস্মাৎ প্রয়াণে জৈন্তাপুরসহ পুরো সিলেট অঞ্চলে গভীর শোকের ছায়া নেমেছে। হাজারো ছাত্র, ভক্ত ও সাধারণ মানুষ তাঁর শূন্যতায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

১৯৬৭ সালের ১০ জানুয়ারি জৈন্তাপুরের লামনীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা আব্দুল জব্বার। পিতা মরহুম আব্দুর রহমান ও মাতা মরহুমা আমেনা খাতুনের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান তিনি। শৈশবে দারুল হাদীস মদীনাতুল উলূম খরিলহাট মাদরাসায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর উপমহাদেশের বিখ্যাত দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী থেকে ১৯৯৩ সালে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন।

দীর্ঘ ৩৬ বছরের মুহতামিম

ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তিনি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম লামনীগ্রাম মাদরাসার মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ৩৬ বছর। কিছুদিন জামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুর মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবেও কাজ করেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে হাজারো ছাত্র দ্বীনি শিক্ষায় আলোকিত হয়েছেন।

তিনি পূর্ব সিলেট কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য ও জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। এছাড়া খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির সিলেট জেলা ও জৈন্তাপুর উপজেলা শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা

মাওলানা আব্দুল জব্বার লামনীগ্রামী বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন নারী দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে। তাঁর একান্ত উদ্যোগে লামনীগ্রাম মাদরাসায় মহিলা বিভাগ চালু হয় এবং ১৫ বছর আগে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত উন্নীত হয়। ২০২৪ সালে পুরুষ বিভাগেও দাওরায়ে হাদিস চালু করে মাদরাসাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।

পারিবারিক জীবন

তিনি যাইমুল কওম শায়খ মাওলানা হাবিব উল্লাহ ভিতরগ্রামীর নাতনি সাবেরা বেগমকে বিয়ে করেন। রেখে গেছেন স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন কন্যা। বড় ছেলে তাসনিম দুবাই প্রবাসী, দ্বিতীয় ছেলে হাফিজ মাওলানা আসজাদ আহমদ ঢাকার এক মাদরাসার শিক্ষক। অন্য দুই ছেলে তানভীর ও তানিম।

একজন আপোষহীন আলেম, মানুষ গড়ার কারিগর ও সমাজসেবক হিসেবে মাওলানা আব্দুল জব্বার লামনীগ্রামী সারাজীবন হকের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সিলেটের দ্বীনি অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

মহান আল্লাহ তাঁর সকল দ্বীনি খেদমত কবুল করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। পরিবার ও ছাত্র-ভক্তদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক
সাংবাদিক-কলামিস্ট, ব্যবসায়ি ও
সাবেক শিক্ষার্থী
জামিয়া ইমদাদুল উলূম লামনীগ্রাম মাদরাসা।
০১৭২৭৫৮০৬৪৯
১৩.০৬.২০২৬

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article