সুরমা টাইমস ডেস্কঃ চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। প্রধান আসামি জাকির হোসেনসহ তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজরুল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
চার্জশিট অনুসারে, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। লাশ গুম করতে সহায়তার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনই ফাহিমার প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে চাচা।
ঘটনার বর্ণনা
গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিমা। দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১১ মে রাতে জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় জাকির লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন।
পুলিশ জানায়, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে দোকান থেকে সিগারেট আনতে পাঠানো হয়। সিগারেট দিয়ে আসার পর জাকির তাকে নিজ ঘরে ডেকে নেন। স্ত্রী বাসায় না থাকায় দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে গলা টিপে হত্যা করেন। মরদেহ প্রথমে ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখেন, পরে ডোবায় ফেলে দেন।
পুলিশের দাবি, জাকিরের দেখানো মতে হত্যায় ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করা হয়েছে।
এলাকায় উত্তেজনা
ঘটনার পর এলাকাবাসী দুবার জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে। সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমার বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা আন্দোলন করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমাদের বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, চার্জশিটভুক্ত সব আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নৃশংস ঘটনায় সিলেটের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ এখনও অব্যাহত রয়েছে।






