গোলাপগঞ্জে বিয়ের আড়াই মাসের মাথায় যৌতুকের ব লি ঝুমকি

গোলাপগঞ্জে বিয়ের আড়াই মাসের মাথায় যৌতুকের ব লি ঝুমকি - Surma Times | Sylhet News

যৌতুকের জন্য মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি বাবার

গোলাপগঞ্জে বিয়ের আড়াই মাসের মাথায় যৌতুকের ব লি ঝুমকি - Surma Times | Sylhet Newsসুরমা টাইমস রিপোর্টঃ গোলাপগঞ্জে সদ্য বিবাহিত গৃহবধূ ঝুমকি রানী দেবকে যৌতুকের দাবিতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা সন্নৎ কুমার দেব।

শনিবার (৬ জুন) সিলেট জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ অভিযোগ করেন তিনি। সন্নৎ দেব বলেন, তার একমাত্র মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা

গোলাপগঞ্জে বিয়ের আড়াই মাসের মাথায় যৌতুকের ব লি ঝুমকি - Surma Times | Sylhet News
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার আদিপান্ত জানাচ্ছেন ঝুমকির চাচা হরিপদ দেব।

সন্নৎ কুমার দেব জানান, গত ৯ মার্চ গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জ পূর্বপাড়ার চঞ্চল দাসের সঙ্গে ঝুমকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য শুরু হয় নির্যাতন। চঞ্চল দাস, তার দুই ভাই সঞ্জিত দাস ও রঞ্জিত দাস, তাদের স্ত্রী নন্দিনী ও নিপা দাস এবং চাচাতো ভাই স্বপন দাস মিলে ঝুমকিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

তিনি বলেন, “আমি গরিব মানুষ। তবু মেয়ের সুখের কথা ভেবে যথাসাধ্য দিয়েছি। কিন্তু তারা কম দামের ফার্নিচার ও স্বর্ণের চেইন না দেওয়ায় খোঁটা দিত। সম্প্রতি তারা আমার দুবাইপ্রবাসী ছেলে কৃষ্ণ দেবের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আনতে চাপ দেয়। টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন বেড়ে যায়।”

মৃত্যুর দিনের ঘটনা

গত ২৪ মে সন্ধ্যায় ঝুমকির স্বামীর বড় ভাই সঞ্জিত দাস বারবার ফোন করে তার বোন অমি দেবকে বলেন, “তোমার বোনের খোঁজ নাও।” পরে জানানো হয়, ঝুমকি ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।

পরিবার গিয়ে দেখে, ঝুমকির মরদেহ ভাসুর রঞ্জিত দাসের শয়নকক্ষে ফ্যানের সাথে ঝুলছে। তার দু’হাত কব্জিতে শক্ত করে বাঁধা, জিহ্বা মুখের ভিতরে ঢোকানো, গলায় সমান্তরাল রশির দাগ এবং পা খাটের ওপর রাখা ছিল। সন্নৎ দেবের দাবি, এসব আত্মহত্যার লক্ষণ নয়, বরং হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

আইনি লড়াই

ঘটনার পর চঞ্চল দাসসহ তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক। সন্নৎ দেব বলেন, থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নেয়। পরে তিনি গত ২ জুন গোলাপগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঝুমকির বাবা, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীরা দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানান। তারা বলেন, যদি সত্যিই আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তাহলে নির্যাতনের জন্য দায়ীদেরও শাস্তি হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থানার ওসির বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ঝুমকি রানী দেব পেশায় শিক্ষিত তরুণী ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article