সুরমা টাইমস ডেস্কঃ ইসরাইলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যম একে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করছে, আর স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে কয়েক মাস ধরে দেশটির বিভিন্ন ঘাঁটি ও বিমানবন্দরে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন রাখা হয়েছে।
কী দেখা গেছে
ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে এফ-২২ ফাইটার জেট মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে বেন গুরিওন ও র্যামন বিমানবন্দরে কয়েক ডজন মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানও অবস্থান করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ইসরাইলের ভেতরে যে পরিমাণ মার্কিন সামরিক বিমান দেখা গেছে, তা আগে কখনও হয়নি। বিশ্লেষণে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে গত সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের কৌশল
ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, ওয়াশিংটন অন্তত বছরের শেষ পর্যন্ত এই মোতায়েন ধরে রাখতে চায়। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র শুধু সাময়িক উপস্থিতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অবস্থানকে আরও জোরালো করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো সামরিক উপস্থিতির সঙ্গে এই পদক্ষেপ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরানে হামলা ও পাল্টা হুঁশিয়ারি
যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গত সোমবার ইরানে অতর্কিত হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এতে অন্তত চারজন নিহত হয় বলে জানা গেছে। হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে তেহরান।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তারা বড় পরিসরে পাল্টা হামলা চালাবে। এতে পুরো অঞ্চলেই অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শান্তি আলোচনার মাঝেও উত্তেজনা
শান্তিচুক্তি ঘিরে কিছু অগ্রগতি থাকলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বেশ কয়েকটি বিষয়ে একমত হতে পারেনি। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না।
ফলে একদিকে আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও অন্যদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতির বার্তাও স্পষ্ট হচ্ছে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়া আর ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

