সুরমা টাইমস ডেস্কঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ঈদযাত্রার চাপে ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি, দুর্ঘটনা ও একাধিক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় ভোর থেকে সড়কে থেমে থেমে চলছে যানবাহন, আর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা।
ঈদযাত্রায় সড়কে স্থবিরতা
মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার পাকুল্ল্যা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বুধবার সকালেও সেই জট পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে উত্তরবঙ্গগামী ও রাজধানীমুখী উভয় দিকের যাত্রীদেরই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের পাশাপাশি রাতের বৃষ্টিও যান চলাচলকে আরও ধীর করে দিয়েছে। কোথাও কোথাও গাড়ি থেমে থাকায় যাত্রীরা দীর্ঘসময় বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
যমুনা সেতু এলাকায় চাপ
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, রাতে বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে সেতু ও সংযোগ সড়কে জটলা তৈরি হয়েছে। তার আশা, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সেতুর টোল প্লাজা ও সংযোগ সড়কে গাড়ির চাপ তুলনামূলক বেশি থাকায় যানবাহনের গতি একেবারেই কমে গেছে। ফলে সাধারণ সময়ের তুলনায় যাত্রীদের পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগছে।
পুলিশের বক্তব্য
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশজুড়ে যানবাহনের চাপ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলছে। তিনি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেন।
যাত্রীদের ভোগান্তি
ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য এমন যানজট বড় ভোগান্তি তৈরি করেছে। বাসে, প্রাইভেটকারে বা মাইক্রোবাসে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেশি।
অনেকে জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে থাকার কারণে খাবার, পানি এবং বিশ্রামের সমস্যাও তৈরি হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে বাড়ি ফেরার আনন্দ এখন অনেকের জন্য ক্লান্তি ও অপেক্ষার যন্ত্রণায় বদলে গেছে।
পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হতে পারে
অধিকর্তৃপক্ষের ধারণা, আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে এবং সড়কের চাপ কমলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে। তবে ঈদ সামনে থাকায় এই মহাসড়কে আরও চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কাও রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, যমুনা সেতু সংযোগ মহাসড়কে এই যানজট ঈদযাত্রার সবচেয়ে বড় দুর্ভোগগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

