সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি স্বীকার বাণিজ্যমন্ত্রীর

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই, পরিস্থিতির বাস্তবতা মেনে নিয়েই ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিলেট নগরজুড়ে আধুনিক ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সরকারের কোনো কমিটমেন্টের ঘাটতি নেই। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় বলেই শাস্তি নিশ্চিত করতে সময় লাগে। তবুও সাম্প্রতিক ধর্ষণসহ আলোচিত ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিন সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই নগরের প্রাণ। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই শহর বাসযোগ্য থাকে। তাই সরকার প্রতি ঈদেই তাদের জন্য বিশেষ উপহার বরাদ্দ দিচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার অনুদানে ৮৩১ জন কর্মীকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা যোগ করে অতিরিক্ত ৩৩১ জন কর্মীকেও এই সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে মোট ১১৫৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এ সুবিধা পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। জানান, অনেকেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। এ সমস্যা সমাধানে নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের ওপরও জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য পরিষ্কার করে সিলেটকে আবার পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপ দেওয়া হবে।

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের বিষয়েও সচেতনতার আহ্বান জানান তিনি। চামড়াকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উল্লেখ করে বলেন, এটি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখে। তাই পশু জবাইয়ের চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ দিয়ে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও কোরবানিদাতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share This Article