ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর: চলতি মৌসুমেই সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো থেকে উত্তোলন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) একটি ফেসবুকভিত্তিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।
কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত তার সংসদীয় এলাকায়ই রয়েছে সিলেটের বেশিরভাগ পাথর কোয়ারি। বন্ধ থাকা এসব কোয়ারি খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েই গত সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, এই মৌসুমেই সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো চালু হবে বলে আমার আশা। সিলেটের পর্যটন ও পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা জাফলংকে সংরক্ষিত রেখে বাকি এলাকাগুলোতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে এগোচ্ছে। চলতি মৌসুমেই এ বিষয়ে সুখবর আসতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় পাথর উত্তোলন নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয়জন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি আদালতের আদেশে সংরক্ষিত জাফলং এলাকাকে অক্ষত রেখে অন্যান্য এলাকায় হস্তচালিত পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের পক্ষে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। সরকার আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আদালত যে সিদ্ধান্তই দেয়, তার পরদিন থেকেই সরকার সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।
চলতি মৌসুমে উত্তোলন শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার বাদীপক্ষ আদালতের সামনে তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছেন। সরকারপক্ষও নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই মৌসুমেই পাথর উত্তোলন শুরু হবে।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারিগুলো থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। পরিবেশ ও প্রাণ ঝুঁকিতে পড়ায় অনেক কোয়ারিতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে উত্তোলন শুরুর দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে আসছেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আশা তৈরি হলেও পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। সনাতন বা হস্তচালিত পদ্ধতির অনুমতির আড়ালে যন্ত্রনির্ভর উত্তোলন, বোমা মেশিনের ব্যবহার কিংবা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকানো যাবে কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে যন্ত্র ব্যবহার করে উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের অভিযানে বারকি নৌকা, বোমা মেশিনসহ সরঞ্জাম জব্দ ও ধ্বংস করা হলেও অবৈধ উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বালু উত্তোলনেও একই ধরনের অভিযোগ আছে। অনুমোদিত পদ্ধতির বাইরে ড্রেজার ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জাফলং, সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়া, শাহ আরেফিন টিলা, রতনপুরসহ পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। সনাতন পদ্ধতিতে অনুমতি দিলেও উত্তোলনের সীমা, গভীরতা, সময়সীমা এবং নজরদারির ব্যবস্থা কী থাকবে—তা স্পষ্ট করা জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশসংশ্লিষ্টরা।
সরকার আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের রায়ের পর পাথর উত্তোলন নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অনুমতি দেওয়া হলে তা যেন পরিবেশ রক্ষার শর্ত, স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারির আওতায় থাকে।







