সিলেট, ৩ সেপ্টেম্বর— র্যাব-৯ এর অভিযানে মৌলভীবাজারে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুল মতিন হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ১ (এক) জনকে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-৯ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও যে কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম আব্দুল মতিন মিয়া (৫৮) মৌলভীবাজার জেলার সদর মডেল থানাধীন শমসেরগঞ্জ দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা। বিবাদীগণ ভিকটিমের সম্পর্কে ভাই-বোন। ভিকটিমের সঙ্গে বিবাদীগণের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছিল এবং এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। গত ২৮/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখ সকাল আনুমানিক ০৯.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম আদালতে চলমান মামলায় সাক্ষ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে মৌলভীবাজার আদালতের দিকে রওনা হন।
পরবর্তীতে ভিকটিম আদালতে সাক্ষ্য প্রদান শেষে বাড়িতে ফিরে না আসায় তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পান। এরপর ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে গত ২৮/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত আনুমানিক ২২.৪৫ ঘটিকার সময় ভিকটিমের প্রতিবেশী মো. সালিক এর মাধ্যমে ভিকটিমের স্ত্রী জানতে পারেন যে, সুন্দর মিয়ার পুকুরের পাশে পাকা রাস্তার ওপর ভিকটিমের রক্তাক্ত লাশ পড়ে রয়েছে।
উক্ত সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের জখমপ্রাপ্ত লাশ দেখতে পান। ভিকটিমের স্ত্রীর ধারণা পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বিবাদীগণ পরস্পর যোগসাজসে ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ ফেলে যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার জেলার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার এবং সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ২২.৩০ ঘটিকার সময় সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন আশারকান্দি ইউনিয়নের অলিতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মৌলভীবাজার জেলার সদর থানার মামলা নং-৩৭, তারিখ-৩০/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ এর মূলে মৌলভীবাজারে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যার ঘটনায় তদন্তে প্রাপ্ত ১ (এক) জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জুয়েল মিয়া (৩০), পিতা সুরুজ মিয়া, সাং-কিত্তেজালালপুর, থানা-বালাগঞ্জ, জেলা-সিলেট।
উল্লেখ্য যে, গত ০৬/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখ উক্ত মামলায় অভিযুক্ত ১ (এক) জন ব্যক্তিকে র্যাব-৯ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছিল।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






