ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামের চেতনানাশক ব্যবহার করে সিএনজি চালক হোসেন মিয়াকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-১১-এর যৌথ দল। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে কুমিল্লার দেবিদ্বার ও কোতোয়ালী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার দুয়ারিয়া গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. আবুল বাশার (৪৪) এবং কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার সংরাইশ এলাকার মৃত রফিক মিয়ার মেয়ে নাজমুন নাহার লাভলী (২৮)।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার একটি যৌথ আভিযানিক দল রোববার রাত আনুমানিক ১টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানাধীন বাগুরা এলাকায় অভিযান চালায়। পরে রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালী থানাধীন নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার হত্যা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, এ ঘটনায় কসবা থানায় মামলা নম্বর ০৩, তারিখ ০২/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দে দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২, ৩৯৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথি ও র্যাবের বিবরণ অনুযায়ী, নিহত হোসেন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন চান্দলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশায় সিএনজি চালক। গত ২৫ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকালে সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে কসবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরে ২৮ মে বিকেলের দিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, কসবা থানাধীন টি. আলী মোড়সংলগ্ন একটি পুকুরে অর্ধগলিত অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান এবং হোসেন মিয়া হিসেবে শনাক্ত করেন।
নিহতের স্ত্রীর ধারণা ছিল, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা সিএনজি, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হোসেন মিয়াকে হত্যা করে মরদেহটি ঘটনাস্থলে ফেলে যায়। পরে তিনি বাদী হয়ে কসবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা ও অন্যান্য আসামি ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামের চেতনানাশক ব্যবহার করে সিএনজি চালককে হত্যা করেন এবং তার সিএনজি অটোরিকশা ছিনিয়ে নেন। এর আগে গত ৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে একই মামলার তদন্তে পাওয়া আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার দুজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।






