গোয়াইনঘাটে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করায় পুলিশের উপস্থিতিতেই বাবাকে কুপিয়ে খুন

গোয়াইনঘাটে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করায় পুলিশের উপস্থিতিতেই বাবাকে কুপিয়ে খুন - Surma Times | Sylhet News

ভাতিজার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ভাইয়ের দায়ের কোপে আরেক ভাই নিহত - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ১৬ আগস্ট: সিলেটের গোয়াইনঘাটে ভাতিজার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার জেরে দুই ভাইয়ের বিরোধের মধ্যে দায়ের কোপে কলিম উল্লাহ (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর আপন ভাই সাইফুল্লাহ (৬০) হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন। পুলিশ সাইফুল্লাহর ছেলে আমির উদ্দিনকে (২৭) আটক করেছে।

শনিবার উপজেলার ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের লাফনাউট গ্রামের পূর্ব দীঘিরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে কলিম উল্লাহর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তাঁর আপন চাচাতো ভাই জুবের আহমদের (১৮) বিরুদ্ধে। জুবের আহমদ অভিযুক্ত সাইফুল্লাহর ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয়রা জুবের আহমদকে আটক করেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে ঘটনাটি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য বুধবার রাতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে জুবেরের বাবা সাইফুল্লাহ জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকায় তাঁর ছেলের বিয়ে ঠিক করেন। স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার রাতেই জুবেরের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এদিকে সালিশে বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত সপ্তাহে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন কলিম উল্লাহ। অভিযোগ পাওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল এসআই নাঈমুলকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

শনিবার এসআই নাঈমুল ও এএসআই অনুপ অভিযোগের তদন্তে ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ সময় কলিম উল্লাহর সঙ্গে তাঁর ভাই সাইফুল্লাহর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল্লাহ দা দিয়ে কলিম উল্লাহর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।

দায়ের আঘাতে কলিম উল্লাহর গলার বাম পাশে গুরুতর জখম হয়। পরে তাঁকে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ সাইফুল্লাহর ছেলে আমির উদ্দিনকে আটক করে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, কলিম উল্লাহ নিহতের ঘটনায় আমির উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশের সামনে হামলা চালানোর বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ভাতিজার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, দুই পরিবারের বিরোধ এবং এর জেরে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article