সিলেট, ১৫ আগস্ট: সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স ও দানের ডেগের টাকা গণনার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘হায়াত ও দেশে প্রত্যাবর্তন’ কামনা করে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে।
শনিবার দানের অর্থ গণনার সময় চিঠিটি পাওয়া গেলে উপস্থিত লোকজনের সামনে তা প্রদর্শন করা হয়। চিঠির নিচে সিলেটের আওয়ামী লীগ সমর্থক সজিব নামের এক ব্যক্তির নাম রয়েছে। তিনি নিজেকে গাজীপুর জেলার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চিঠিতে শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে তাঁর দেশে ফেরার আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে লেখা হয়েছে, “হে আল্লাহ তুমি মহান! আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের হায়াত কমিয়ে নেত্রীর হায়াত বাড়িয়ে দেন।”
চিঠিতে ‘প্রত্যাবর্তন-২’ শিরোনামের নিচে ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বর-২০২৬’ লেখা রয়েছে। পাশাপাশি জুলাইয়ের আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলা থেকে শেখ হাসিনাকে এবং ‘মিথ্যা হত্যা মামলা’ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সুরক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানানো হয়েছে।
এদিন দানের ডেগ ও দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ অর্থের পাশাপাশি আরও কয়েকটি চিঠি পাওয়া যায়। এসব চিঠিতে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রার্থনা ও আবেদন লেখা ছিল।
তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ টাকা
এবার তৃতীয় দফায় ৩৪ দিনে মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ, ১ ভরি ২ আনা রুপা এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়।
গণনা শেষে বিকেলে এসব তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৩১ দশমিক ১১ পাউন্ড, ৩ হাজার ২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ৪ মার্কিন ডলার, ১০০ নেপালি রুপি, ১ হাজার ওমানি বায়সা, ৬৪ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ২৫০ ইরাকি দিনার, ৯০ তুর্কি লিরা, ১ হাজার ভিয়েতনামি ডং, ১ হাজার জাপানি ইয়েন, ১১২ কাতারি রিয়াল, ১০ লেবানিজ পাউন্ড, ১০ মিসরীয় পাউন্ড, শূন্য দশমিক ৪০ ইউরো, ১ বাহরাইনি পয়সা এবং ১ কানাডিয়ান ডলার।
এ ছাড়া নজরানা হিসেবে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি পাওয়া গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আগের দুই দফার হিসাব
হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের বহু বছরের প্রথা ভেঙে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর ওই গণনায় মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়।
এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার দানবাক্স খোলা হলে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। ওই দফায় বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণসহ অন্যান্য সামগ্রীও পাওয়া গিয়েছিল।
তৃতীয় দফায় ৩৪ দিনে আগের দুইবারের তুলনায় বেশি নগদ অর্থ পাওয়া গেছে। দানের টাকা, স্বর্ণ, রুপা, বৈদেশিক মুদ্রা ও চিঠিগুলো প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।






