সিলগালাকৃত হোটেলে ফের অনৈতিক কার্যক্রম, যৌথ অভিযানে আটক ২০

সিলগালাকৃত হোটেলে ফের অনৈতিক কার্যক্রম, যৌথ অভিযানে আটক ২০ - Surma Times | Sylhet News

সিলগালাকৃত হোটেলে ফের অনৈতিক কার্যক্রম, যৌথ অভিযানে আটক ২০ - Surma Times | Sylhet Newsবগুড়া, ১০ আগস্ট: সিলগালা করে দেওয়া একটি অনিবন্ধিত আবাসিক হোটেলে অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম চলছিল দীর্ঘদিন ধরে, এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। এ সময় ২০ নারী-পুরুষকে আটক করা হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বগুড়া শহরের তিনমাথা রেলগেট এলাকার ‘অবকাশ’ নামের হোটেলটিতে চলে এই অভিযান। অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হোটেল পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে দেওয়া হয় এক মাসের কারাদণ্ড। বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, তিনমাথা রেলগেট সংলগ্ন আদর্শ কলেজ গেট এলাকার হোটেল অবকাশের কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই। অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এর আগেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোটেলটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের সেই সিলগালা পাশ কাটিয়ে অন্য পাশে তৈরি করে নতুন একটি পকেট গেট। এরপর বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে গোপনে চালিয়ে আসছিল অনৈতিক ব্যবসা ও মাদক সেবনের আসর।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে র‍্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা প্রথমে হোটেলটি ঘেরাও করেন। এরপর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে চালানো হয় যৌথ অভিযান। অভিযানের সময় হোটেলের নতুন গেটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন অভিযান পরিচালনাকারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ ও ছাদে তল্লাশি চালানো হয়। এক পর্যায়ে পাশের একটি ভবনের ছাদ থেকে ১৪ নারী ও ছয় পুরুষসহ মোট ২০ জনকে আটক করা হয়।

অভিযানে সেখান থেকে জব্দ করা হয় মাদকদ্রব্য, মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বগুড়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সরাসরি অবৈধভাবে হোটেল পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিবন্ধনহীন হোটেল সিলগালা করার পরও তা ভেঙে পুনরায় অবৈধভাবে চালু করার দায়ে তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জন নারী ও দুজন পুরুষ। অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক রাখার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলমান এবং তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে র‍্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, হোটেলটি সিলগালা থাকার পরও বাইপাস পদ্ধতিতে বিকল্প গেট বানিয়ে ভেতরে অনৈতিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তারা অভিযান চালান। হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিচালনা করা হয় মোবাইল কোর্ট।

তিনি আরও জানান, হোটেলের কক্ষ ও ছাদ থেকে মাদকসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। শহরের অন্য কোনো অননুমোদিত হোটেলে এ ধরনের কার্যক্রম চললে সেখানেও একই রকম কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সিলগালা করার পরও একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দিনের পর দিন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, এই ঘটনা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। নজরদারির ফাঁক গলে এমন প্রতিষ্ঠান পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠার প্রবণতা ঠেকাতে নিয়মিত ও কঠোর তদারকির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article