সিলেট, ১০ আগস্ট: সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিভাগভিত্তিক ফলে সবচেয়ে পিছিয়ে মানবিক বিভাগ। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। জেলাভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে কম পাসের হার হবিগঞ্জে।
সোমবার সকালে সারাদেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৫৩ হাজার ৮৯১ জন এবং ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনটি বিভাগের মধ্যে মানবিক বিভাগেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এ বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। মোট ২৭ হাজার ৮১৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১২০ জন।
তুলনামূলকভাবে বিজ্ঞান বিভাগে ফল ভালো হয়েছে। এ বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা তিন বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফলাফলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। হবিগঞ্জে পাসের হার সবচেয়ে কম, ৫৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৫ জন। মৌলভীবাজারে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। সিলেটে ৬২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং সুনামগঞ্জে ৬২ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
তবে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের জেলাভিত্তিক ফলাফল নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের একটি অংশে অসঙ্গতি রয়েছে। এক জায়গায় সিলেট জেলাকে পাসের হারে এগিয়ে এবং সুনামগঞ্জকে সর্বনিম্ন বলা হলেও পরবর্তী পরিসংখ্যানে হবিগঞ্জে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪০ শতাংশকে সর্বনিম্ন এবং সুনামগঞ্জে ৬২ দশমিক ৮৮ শতাংশকে সর্বোচ্চ দেখানো হয়েছে। প্রকাশিত সংখ্যাগত তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জেই পাসের হার সবচেয়ে কম।
এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। আর ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৭১ জন।
অন্যদিকে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এক বছরে তা কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ১২ হাজার ৭৯৮ জন। একই সঙ্গে পাসের হার কমে যাওয়ায় সার্বিক ফলাফল নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সারাদেশের সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলেও সিলেটের অবস্থান পেছনের দিকে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি, ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরপর রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ পাসের হার হয়েছে। এ হিসাবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সিলেটের অবস্থান পেছনের দিক থেকে দ্বিতীয়।
১১টি শিক্ষা বোর্ডের হিসাব ধরলে সবচেয়ে কম পাসের হার বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে। দাখিল পরীক্ষায় এ বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। সব মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
সিলেটের ফলাফলে মানবিক বিভাগের ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ পাসের হার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, বিভাগটির তুলনামূলক দুর্বল ফলাফলের কারণ গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি পিছিয়ে রয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে কী ধরনের প্রবণতা রয়েছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শিক্ষা কার্যক্রমে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।






