ছাতক, ৬ আগস্ট: পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কালজয়ী কবিতা ‘কবর’। ১৯২৫ সালে, বাংলা ১৩৩২ সনে, কল্লোল পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাটি। শত বছর পেরিয়ে সেই স্মরণীয় মুহূর্তকে ঘিরে ছাতকে আয়োজিত হলো এক আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, উদ্যোগে ছিল মুক্তাক্ষর।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ছাতক চন্দ্রনাথ বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। শিক্ষক অমরেশ সরকার সঞ্জুর উপস্থাপনায় এবং মুক্তাক্ষরের পরিচালক প্রশিক্ষক বিমল করের সভাপতিত্বে বসে আলোচনা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানকে প্রাঞ্জল করে তোলেন ছাতক চন্দ্রনাথ বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মো. রবিউল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী বাংলা শিক্ষক শাহানারা বেগম ডলি, সহকারী বাংলা শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম এবং সহকারী বাংলা শিক্ষক জুবায়ের আলম। এছাড়া বিচারকার্যে ছিলেন মুক্তাক্ষরের প্রশিক্ষক বিমল কর, একই বিদ্যালয়ের ভৌত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রাজিব দাস এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক গুনেন্দ্র সরকার।
মোট ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতা শেষে ফলাফলে দেখা যায়, প্রথম স্থান অর্জন করেছে ৬ষ্ঠ শ্রেণির সেঁজুতি ঘোষ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্বীকৃতি সাশ। আর তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শুভশ্রী দেব।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল সপ্তক সংগীত বিদ্যালয়, ছাতক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলা হয়, পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কালজয়ী কবিতার সঙ্গে চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ও শতবছরের সাক্ষী হয়ে রইল। তার ভাষায়, অন্তর্নিহিত কবিতার মর্মার্থ, স্কুল পাঠ্যের সেরা কবিতার উপলব্ধি সব শিক্ষার্থীর মধ্যে পরিস্ফুটিত হোক, এটাই তাদের প্রত্যাশা।
শতবর্ষ পুরনো এক কবিতাকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের এই সম্পৃক্ততা শুধু আবৃত্তি প্রতিযোগিতাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং জসীমউদ্দীনের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি প্রয়াস হিসেবেও দেখা হচ্ছে এই আয়োজনকে, যা ভবিষ্যতে বাংলা সাহিত্যের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।





