সিলেট, ৩১ জুলাই: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরে টাকার বিনিময়ে গর্ভপাত ঘটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের গোরাগ্রাম বরইকান্দি গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে কটন আলী (৫৫) একই গ্রামের আমীর আলীর মেয়ে আলীনা বেগমকে (১৪) কয়েক মাস আগে ভয়ভীতি ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবার সন্দেহ প্রকাশ করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আব্দুর রহমান ও তার সহযোগী সমন্ধিক মছব্বির আলী, ইসলাম উদ্দিন, শালা মশাহিদ আলী, স্থানীয় উপরগ্রামের শামীম আহমদ এবং সমন্ধিক ইউনুস আলীর স্ত্রী নাজমা বেগম ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে গোপনে অসহায় আমীর আলীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও সালিসের মাধ্যমে ফয়সালার কথা বলে গত বৃহস্পতিবার ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে নিয়ে গিয়ে গাইনি বিভাগের নার্স শেফালি বেগমের মাধ্যমে এক ডাক্তারের বাসায় নিয়ে এব্রশন করে গর্ভপাত করানো হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে এখনও ফয়সালা হয়নি। বর্তমানে কিশোরীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে গোরাগ্রাম বরইকান্দি গ্রামের মুরব্বি আলীম উদ্দিন বলেন, “এরকম ঘটনা ঘটেছে সঠিক, তবে ভিকটিম গরিব হওয়ায় আর্থীক লেনদেনর মাধ্যমে সমঝোতা হয়ে গেছে।” একই গ্রামের পাঞ্চায়েত কমিটির মুরব্বি আব্দুল মুকিত বলেন, “বিষয়টি আমাদের গ্রামের পাঞ্চায়েতে মেয়ের বাবা বিচার প্রার্থী হন। পরে শুনছি ২ লাখ টাকার বিনিময়ে দামাচাপা দেওয়া হয়।”
ভুক্তভোগী আলীনার বাবা আমীর আলী বলেন, তিনি গরিব ও অসহায় হওয়ায় একাধিকবার বিচার চেয়েও পাননি। তার অভিযোগ, আব্দুর রহমান তার মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করে ফেলেন এবং পরে সহযোগীরা সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে এব্রশন করিয়ে গর্ভপাত ঘটান। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ।”
অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের কাছে ফোনে ধর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে স্থানীয় উপরগ্রাম গ্রামের শামীম আহমদ জানান, মেয়েটির গর্ভপাতের বিষয়টি সঠিক এবং তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, এব্রশনের ১১০০০ টাকা তার বিকাশে লেনদেন হয়েছে, বাকী ৪০০০ টাকা নাজমা বেগম দিয়েছেন। অপরদিকে আব্দুর রহমানের শালা মুশাহিদ আলী ধর্ষণ ও গর্ভপাতের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আপোষ মীমাংসা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়দের দাবি, আব্দুর রহমান এর আগেও একাধিক ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং তার পিতার বাড়ি পশ্চিম জাফলংয়ের মনাইকান্দি গ্রাম থেকেও এসব কার্যকলাপের কারণে তাকে বিতাড়িত করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল অভিযুক্ত বৃদ্ধসহ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক বলেন, “বিষয়টি এই মাত্র জেনেছি, খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”






