ঢাকা, ২০ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও সেখানকার ভিসানীতি ও অবস্থানের নিয়ম কঠোর করার ঘোষণায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি অনুসারে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়সীমা নির্ধারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, একাডেমিক প্রোগ্রাম বদল এবং পড়াশোনা শেষ করার পর দেশটিতে অবস্থানের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে।
এই নিয়ম কার্যকর হলে দীর্ঘমেয়াদি কোর্স, যেমন পিএইচডি বা চার বছরের বেশি সময় লাগে এমন প্রোগ্রামে পড়া শিক্ষার্থীরা জটিলতায় পড়তে পারেন। কারণ আবেদন করলেও তাদের মেয়াদ বাড়ানোর নিশ্চয়তা নেই।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ নীতি ভিসার অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে।
কী কী পরিবর্তন?
শিক্ষার্থীদের ভিসানীতিতে মোটা দাগে পাঁচ-ছয়টি পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চার বছর মেয়াদি ভিসা প্রদান (আগে পাঁচ বছর ছিল) এবং ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’-এর মেয়াদও চার বছর করা হয়েছে।
আগে এফ-১ ও জে-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ শর্তে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে যত সময় লাগত ততদিন থাকতে পারতেন। নতুন নীতি সেই সুযোগ সীমিত করেছে।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, প্রোগ্রাম বদলের সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। পড়াশোনা শেষ করার পর ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে (আগে ৬০ দিন ছিল)।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
নতুন নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, যারা নিয়ম মেনে পড়াশোনা করছেন তাদের খুব একটা সমস্যা হবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বা পিএইচডি করা শিক্ষার্থীদের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম মূলত ভিসার অপব্যবহার ঠেকানোর উদ্দেশ্যে। তবে কিছু পরিবর্তন আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিও কঠোর করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে পড়াশোনা শেষ করে ওয়ার্ক পারমিট (ওপিটি) নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপরও।






