মৌলভীবাজার, ১২ জুলাই ২০২৬: টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং সড়ক ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রাজনগর ও সদর উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার কারণে জেলায় সামগ্রিকভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এখনো অধিকাংশ দুর্গত এলাকায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে ত্রাণ পৌঁছেনি। কিছু এলাকায় সীমিত সহায়তা পৌঁছালেও অধিকাংশ মানুষ এখনো সাহায্য থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ও রহিমপুর এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা, কামারচাক ও পাঁচগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও অনেক বাড়িঘর ও আঙিনায় এখনো পানি জমে রয়েছে। ফলে দুর্ভোগ কাটেনি বাসিন্দাদের।
রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুর রহমান, হাওয়া বেগম ও সইফুল মিয়া জানান, তিন দিন ধরে তারা পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। অনেক ঘরে হাঁটুসমান পানি থাকলেও এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি। কেউ কেউ আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী এবং ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্গতদের জন্য ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯০ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার নদ-নদীর পানি গত রাত থেকে কমতে শুরু করেছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের সহায়তা নেওয়া হবে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে এবং দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।






