বিয়ানীবাজারে কিশোরী কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা, নেপথ্যে পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব

বিয়ানীবাজারে কিশোরী কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা, নেপথ্যে পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব - Surma Times | Sylhet News

বিয়ানীবাজারে কিশোরী কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা, পলাতক পিতার খোঁজে অভিযান - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ১০ জুলাই ২০২৬: সিলেটের বিয়ানীবাজারে প্রেম, পারিবারিক অমিল ও সামাজিক চাপের জটিলতায় রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) নামের এক কিশোরীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন তার আপন বাবা আবু বক্কর। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে নানাবাড়ির পুকুরঘাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর ঘাতক পিতা পালিয়ে যান।

নিহত রিয়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর রায়গড় এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক আবু বক্করের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রিয়া নানাবাড়ির পুকুরঘাটে গোসল করতে গেলে তার বাবা সেখানে উপস্থিত হয়ে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এতে রিয়ার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুকুরঘাটের সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ঘটনার পেছনে পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। জানা গেছে, অল্প বয়সে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন আহমদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রিয়া। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি তার বাবা। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে প্রায় এক বছর আগে তারা বিয়ে করেন। তবে দাম্পত্য জীবনে কলহের জেরে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হলে রিয়া বাবার বাড়িতে ফিরে এসে বিয়ানীবাজারের নানাবাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রিয়া আবারও স্বামী শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এরপর পারিবারিক টানাপোড়েন ও সামাজিক চাপ আরও বাড়ে। স্থানীয়দের ধারণা, এসব ঘটনার জের ধরেই আবু বক্কর এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছবেদ আলী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘাতককে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন, তবে এখনো অভিযুক্ত আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

নৃশংস এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক চাপের প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article