মৌলভীবাজার, সোমবার (৬ জুলাই): মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নে স্ত্রী জায়েদা বেগমকে হত্যা করে বাড়ির উঠোনের সামনে টিলার নিচে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আলমগীর আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ আলমগীরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত জায়েদা বেগম রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগানের আলমগীর আলীকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তাদের সংসারে ৬ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৮ জুন জায়েদা বেগম স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। পরে স্বামী আলমগীর মিয়া জানান, জায়েদা বেগম বিদেশে চলে গেছেন। এতে সন্দেহ হলে জায়েদা বেগমের বাবা আব্দুল হান্নান গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
মামলার তদন্তভার পান রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অরূপ সরকার। তদন্তে আলমগীরের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জায়েদাকে হত্যা করে লাশ মাটির নিচে পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম এবং রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের উপস্থিতিতে আলমগীরের নিজ বাড়ির উঠোনের সামনে ৮ ফুট মাটির নিচ থেকে জায়েদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় স্বামী আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান বলেন, মেয়েকে বিদেশে চলে গেছে বলে জানানো হয়েছিল। প্রমাণ দিতে না পারায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলমগীরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তিনি এ ঘটনায় সঠিক বিচারের দাবি জানান।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, জায়েদা বেগম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা ৩ জুলাই রাজনগর থানায় জিডি করেন। জিডির ভিত্তিতে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠোনের সামনের ৮ ফুট নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দাম্পত্য কলহের কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।





