তেহেরান, ২ জুলাই ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় তার পুত্র ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি তুলে ধরেছে।
বাবার মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মোজতবা গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং শুধু লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি বা কথা বলেননি।
ইরানি কর্মকর্তারা তার সুস্থতার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তারা দাবি করছেন, মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের আলোচনাও পরিচালনা করছেন।
জানাজায় উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ বাবার জানাজায় মোজতবার উপস্থিতি হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি তার প্রথম জনসমক্ষে আসা হবে এবং দেশের অভ্যন্তরে তার বৈধতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।
তবে অনুপস্থিতি তার সুস্থতা নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং দেশটি আসলে কে চালাচ্ছে— সেই প্রশ্নও উঠবে। বুধবার তার প্রয়াত স্ত্রীর জন্য আয়োজিত একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মোজতবা খামেনিকে ‘মৃত্যুর জন্য চিহ্নিত করেছে’ বলে হুমকি দিয়েছেন। তেহরান এ ধরনের যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেবে।
চলমান সংঘাতের মধ্যে জানাজায় অনুপস্থিতি ইরান সম্ভবত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করবে। তবে এটি তার স্বাস্থ্য ও নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর করবে।
ইরানের অভ্যন্তরে ইতোমধ্যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। জানাজা আয়োজক কর্তৃপক্ষের প্রধান আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান বলেন, “এ বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে নয়। সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের উপর নির্ভরশীল।”






