সিলেটের কাষ্টঘর: সন্ধ্যা নামলেই মাদকের উৎসব, রাত বাড়লে বাণিজ্য!

সিলেটের কাষ্টঘর: সন্ধ্যা নামলেই মাদকের উৎসব, রাত বাড়লে বাণিজ্য! - Surma Times | Sylhet News

সিলেটের নরককুণ্ড কাষ্টঘর: সন্ধ্যা নামলেই মাদকের উৎসব, রাত বাড়লে বাণিজ্য! - Surma Times | Sylhet Newsসুরমা টাইমস ডেস্কঃ ছিচকে চোর থেকে দাগি আসামি, খুঁচরা গাঁজা ব্যবসায়ী থেকে বড় মাদক ডিলার — সবারই নিরাপদ আশ্রয়স্থল সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের কাষ্টঘর সুইপার কলোনি। যুগ যুগ ধরে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে এই ‘নরককুণ্ড’।

সন্ধ্যা নামার পর থেকেই শুরু হয় মাদকের রমরমা বাণিজ্য। গভীর রাত পর্যন্ত চলে ইয়াবা, গাঁজা, মদসহ নানা নেশাজাতীয় দ্রব্যের কেনাবেচা। ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে থাকা পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অনেকেই এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। বাচ্চা-বৃদ্ধ সবাই তখন ঘরের বাইরে। মহিলারা মাদক বিক্রিতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সিলেটের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলা থেকে পুলিশের তাড়া খাওয়া অপরাধীরাও এখানে আশ্রয় নেয়। রাত আড়াইটা-তিনটা পর্যন্ত চলে এই উৎসব, তারপর ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যায় এলাকা।

শুধু কাষ্টঘর নয়, আরও অনেক জায়গা

দক্ষিণ সুরমার সুরমাপার সুইপার কলোনিতেও একই চিত্র। জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পর কিছুটা কমলেও আবার মাদক ব্যবসা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এছাড়া শহরতলীর মালনিছড়া, আলীবাহার, তারাপুরসহ বিভিন্ন চা বাগানেও রয়েছে এমন অসংখ্য আস্তানা। চা শ্রমিকদের আবাস এলাকায় রাতে চলে মাদকের উৎসব।

সম্প্রতি পুলিশ অভিযান

শনিবার (২৭ জুন) রাতে কাষ্টঘরে কোতোয়ালী থানা পুলিশের সাড়াশি অভিযানে ৩০ জনকে আটক করা হয়। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, মদ, দেশীয় অস্ত্র ও নগদ টাকা। ২৭ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয় এবং তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, “গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। শিগগিরই সিলেটের সব মাদকের আস্তানায় বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।”

ধর্মপ্রাণ নগরবাসী এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রকাশ্য মাদক বাণিজ্য শিগগিরই বন্ধ হবে এবং এসব এলাকার বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article