সুরমা টাইমস ডেস্কঃ এক সময় মেঘলা আকাশ, টানা বৃষ্টি আর শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত যুক্তরাজ্য এখন তীব্র তাপদাহে অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি। চলতি গ্রীষ্মে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, আর দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় তা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের মতো শীতপ্রধান দেশের জন্য এই তাপমাত্রা শুধু অস্বাভাবিকই নয়, বরং উদ্বেগজনক সংকেত। কারণ দেশটির অবকাঠামো এখনো এমন চরম গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত নয়। অধিকাংশ বাসা-বাড়ি, স্কুল ও অফিস শীত মোকাবিলার কথা মাথায় রেখে নির্মিত হওয়ায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা সীমিত। ফলে বাইরে যেমন গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত, ঘরের ভেতরেও বাড়ছে অসহনীয় পরিস্থিতি।
তাপদাহের সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিক্ষাখাতেও। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় স্কুলগুলোকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও বহিরাঙ্গন কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে, আবার কোথাও শিক্ষার্থীদের বেশি করে পানি পান ও রোদ এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি।
অন্যদিকে, এই অস্বাভাবিক গরমে চাপে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যও। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও ছোট ব্যবসাগুলো ক্রেতা কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে। বার্মিংহামের এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জানান, তীব্র গরমের কারণে মানুষ অপ্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন না, ফলে প্রতিদিনের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
শুধু যুক্তরাজ্য নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তাপদাহ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। এক সময়ের শীতল যুক্তরাজ্যে আজ প্রায় ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট প্রমাণ।





