পৃথিবীতে একটাই জাতি-মানুষ। জ্ঞান, বিবেক ও বুদ্ধির জন্য সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এই মানবজাতি। কিন্তু ধর্মের নামে বিভেদ, অবমাননা ও সহিংসতা এই শ্রেষ্ঠত্বকে কলঙ্কিত করছে বারবার।
কলামনিস্ট পিযুষ চক্রবর্তী তার লেখায় তুলে ধরেছেন, ধর্ম আসলে ধারণ করে-স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক, দেহ-মন-আত্মার কল্যাণ এবং পরকালীন মুক্তির পথ। স্রষ্টা এক ও অদ্বিতীয়। বিভিন্ন ধর্ম, মত ও পথের মাধ্যমে মানুষ তাঁরই সন্তুষ্টি ও শ্রদ্ধা জানায়। মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায় কিংবা প্যাগোডায়-সবখানেই একই স্রষ্টার উদ্দেশে নত হয় মাথা।
তিনি লিখেছেন, ধর্ম যেমন নিজেকে শেখায়, তেমনি অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান পোষণ করতেও উদ্বুদ্ধ করে। বৌদ্ধ ধর্মে ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’-এই কামনা, সনাতন ধর্মে ‘ওম শান্তি’-এই শান্তির বাণী এবং ইসলামের এক স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস-সবকিছুর মূলে রয়েছে মানবকল্যাণ ও সম্প্রীতি। ধর্মের নামে হিংসা কিংবা অন্যের বিশ্বাসে আঘাত করা আসলে স্রষ্টাকেই অবমাননা করা।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে উদ্বেগ
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে রক্ত দিয়েছে সমান অধিকার ও মর্যাদার জন্য। কিন্তু এখনও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লেখক।
তিনি বলেন, প্রকৃত ধার্মিক কখনো ধর্মের নামে সহিংসতা করেন না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তিনি দাবি জানিয়েছেন—এমন ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে। যাতে কেউ ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার সাহস না পায়।
এক স্রষ্টার এক পৃথিবী
পিযুষ চক্রবর্তী মনে করিয়ে দিয়েছেন, মানুষ একা বাঁচতে পারে না। সমাজ, দেশ ও বিশ্ব-সবকিছুতেই আমরা পরস্পর নির্ভরশীল। রাশিয়া-ইউক্রেন কিংবা অন্য কোনো সংঘাত যখন পৃথিবীকে প্রভাবিত করে, তখনও বোঝা যায়-আমরা সবাই একই নৌকায়। ধর্মীয় বৈচিত্র্য থাকলেও গন্তব্য এক-স্রষ্টার কৃপা ও মানবকল্যাণ।
তিনি উপসংহারে বলেন, নিজ ধর্মকে সঠিকভাবে জেনে পালন করুন, অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন। হিংসা ও অহংকার শুধু ইহকাল নয়, পরকালেও ক্ষতি ডেকে আনে।
বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত ও বিভেদ বাড়ছে, তখন ধর্ম ও সম্প্রীতির এই বার্তা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।
(লেখক: পিযুষ চক্রবর্তী, কলামনিস্ট)






