ভারতের ‘বড় অস্ত্র ডিল’ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির খেলা

ভারতের ‘বড় অস্ত্র ডিল’ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির খেলা - Surma Times | Sylhet News

ভারতের ‘বড় অস্ত্র ডিল’ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির খেলা - Surma Times | Sylhet Newsসুরমা টাইমস রিপোর্টঃ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্ভাব্য অস্ত্র চুক্তি। আবুধাবির কাছে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রসহ একাধিক আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির বিষয়ে দিল্লি এখন সক্রিয় আলোচনায় রয়েছে।

চারটি ভারতীয় সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচনায় রয়েছে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মস এবং অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশতীর। যদিও আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ইরানের হামলার অভিজ্ঞতা আমিরাতকে নতুন করে প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত অস্ত্র কেনার দিকে ঝুঁকছে দেশটি।

ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র, যা ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি, স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির অস্ত্র। অন্যদিকে আকাশতীর একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা শত্রু আকাশ হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে কার্যকর।

তবে এই সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে রাশিয়ার অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ব্রহ্মস যৌথভাবে তৈরি হওয়ায় এর রপ্তানিতে মস্কোর সম্মতি প্রয়োজন হবে। যদিও সূত্র বলছে, আবুধাবি ও মস্কোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই বাধা সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারে।

স্টকহোমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপ্রির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বাজারে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মোট আমদানির ৫৪ শতাংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তবে ভারত এই বাজারে নতুন প্রতিযোগী হিসেবে দ্রুত উঠে আসছে।

বিশেষজ্ঞ পার্ল পান্ডিয়া বলছেন, একাধিক দেশ থেকে অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে আমিরাত কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াতে চাইছে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান জোটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না বলেও তিনি মনে করেন।

এই চুক্তিকে কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ভারত। সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে এটি একটি পাল্টা ভারসাম্য তৈরির প্রচেষ্টা।

এরই মধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০১৩–১৪ অর্থবছরে যেখানে রপ্তানি ছিল মাত্র ৭.২৬ মিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস বিক্রির পর নতুন করে আন্তর্জাতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভারত-আমিরাতের সম্ভাব্য এই অস্ত্র চুক্তি শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article