বগুড়া প্রতিনিধিঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রকাশের অভিযোগে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া ডিবি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২০ জুন) তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান জানান, ৪০ বছর বয়সী রেজানুর ইসলাম গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার বসুরা এলাকার জলিল মিয়ার ছেলে। বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বাদী বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দি নিউ নেশন পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন ১৫ জুন বগুড়া আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি সদর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ কী?
মামলায় বলা হয়েছে, ৪ জুন ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া ১২ ও ১৩ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই রহমতুল্লাহ মানিক জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে এবং গ্রেপ্তার সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তার নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা বা পদক্ষেপ না নেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, তার সম্পর্কে প্রচারিত তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকাশ করতে।
বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার বলেন, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় বগুড়ায় সাংবাদিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।






