জকিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিঘালী সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর ডিপজল আহমেদ (২৫) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয়রা দাবি করছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি চালালে তিনি নিহত হন এবং তার মরদেহ সীমান্তের ওপারে আটকে রাখা হয়েছে। তবে বিএসএফ এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জকিগঞ্জের উত্তরকুল সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত ডিপজলের অবস্থান সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় সিলেটভিউকে বলেন, “ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকেও বিএসএফ জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে কোনো গুলির ঘটনা বা ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”
তিনি আরও বলেন, “ডিপজলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিএসএফও তার খোঁজে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।”
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র জানায়, দিঘালী গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে ডিপজল আহমেদ গত রবিবার (১৪ জুন) ৪-৫ জন যুবকের সঙ্গে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। দেশে ফেরার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে এবং গুলি চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য যুবকরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এলেও ডিপজল আর ফেরেননি।
এ ঘটনার পর বিএসএফের গুলিতে ডিপজল নিহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় যুবকরা ভারতের শ্রীভূমি জেলার রাজারটিলা জিপির কিন্নখাল এলাকার বাসিন্দা রঞ্জিত দাস (৬০) নামে এক ভারতীয় কৃষককে শূন্যরেখা থেকে ধরে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। পরে মঙ্গলবার রাত ৯টায় বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকে তাকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়।
পুলিশের বক্তব্য
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “একজন বাংলাদেশি যুবক ভারতে প্রবেশের পর নিখোঁজ হয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। তবে এ বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় বিজিবির পাশাপাশি পুলিশও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে।”
স্থানীয়রা ডিপজল আহমেদের জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বা মরদেহ পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আরও সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।






