সুরমা টাইমস ডেস্কঃ প্রিয় পাঠক, মহররম হিজরি বছরের প্রথম মাস। এ মাসে আল্লাহ তাআলার নিকট মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও কল্যাণ কামনা করা হয়। বিশেষ করে ১০ মহররম আশুরার দিনের রোজার ফজিলত অপরিসীম।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসে দেখেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তখন তিনি বলেন, “আমরা হজরত মূসা আলাইহিস সালামের অনুসরণে তাদের চেয়ে অধিক হকদার।” এরপর নবীজি নিজে আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে রোজা রাখার নির্দেশ দেন (বুখারি শরিফ)।
হাফিজ মাছুম আহমদ আরও লিখেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোজার সঙ্গে ৯ম অথবা ১১তম তারিখ মিলিয়ে তিনটি রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। একদিন একা রোজা রাখা মাকরুহ। আশুরার রোজায় বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয় বলে হাদিসে এসেছে।
আশুরার সঙ্গে জড়িত ঐতিহাসিক ঘটনা
আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে:
- হজরত আদম আলাইহিস সালামের তওবা কবুল
- হজরত নূহ আলাইহিস সালামের নৌকা জুদি পাহাড়ে ভিড়া
- হজরত মূসা আলাইহিস সালাম ও বনি ইসরাইলের ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি
- হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের মাছের পেট থেকে বের হওয়া
- হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নমরুদের আগুন থেকে মুক্তি
- এবং সর্বশেষ, হযরত ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত।
তিনি বলেন, “রমজানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোজা হলো মহররমের রোজা। এ মাসকে আল্লাহর মাস বলা হয়েছে।”
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতিব।
তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আশুরার রোজা রেখে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ ও বরকতময় জীবন কামনা করুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ফজিলতপূর্ণ আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।





