সুরমা টাইমস ডেস্কঃ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটের গ্রাহকরা। টাকা জমা দেওয়ার পর মোবাইলে আসছে ৮০ থেকে ২৪০ ডিজিটের অস্বাভাবিক লম্বা টোকেন নম্বর। এত বড় সংখ্যা মিটারে ঢোকাতে গিয়ে ভুল হচ্ছে বারবার। ভুল হলেই মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। আর লক খুলতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এ যেন টাকা নেওয়ার নতুন ফাঁদ।
নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম আহমদ জানান, “রিচার্জ করার পর প্রায় ২৪০ ডিজিটের টোকেন এসেছে। কয়েকবার চেষ্টা করেও মিটারে ঢোকাতে পারিনি। এখন বিদ্যুৎ নেই, গরমে অতিষ্ঠ।”
একই অভিযোগ অনেক গ্রাহকের। বয়স্ক ও অনভিজ্ঞরা তো আরও বেশি বিপাকে। দীর্ঘ নম্বর ঢোকাতে গিয়ে ভুল হওয়ায় মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। লক খুলতে আবার অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ
গ্রাহকরা বলছেন, সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে গেলে সাড়া মিলছে না। অনেকে অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষের এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) বলছে, এটি কোনো ত্রুটি নয়। নতুন ট্যারিফ কার্যকর করার জন্যই এমন ব্যবস্থা।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “বৈদ্যুতিক মিটারের ট্যারিফ পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের একবার দীর্ঘ টোকেন ব্যবহার করতে হচ্ছে। সতর্কতার সঙ্গে সঠিকভাবে ঢোকালে মিটার নতুন ট্যারিফ বুঝে নেবে। পরবর্তী রিচার্জে আবার স্বাভাবিক টোকেন আসবে। যারা সাহায্য চান, আমরা সাধ্যমতো সহায়তা করছি।”
কীভাবে ঢোকাবেন লম্বা টোকেন?
নেসকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবাসিক প্রিপেইড মিটারে এখন ৬ ধাপে বিল হিসাব হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি ধাপের ইউনিট মূল্য পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে সাধারণ রিচার্জ টোকেনের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত দীর্ঘ টোকেন পাঠানো হচ্ছে।
টোকেনটি সাধারণত ২২০ ডিজিটের হয় এবং প্রতি ২০ ডিজিট পর পর কমা (,) দিয়ে ভাগ করা থাকে। গ্রাহকদের উচিত:
- প্রথম ২০ ডিজিট মিটারে ঢুকিয়ে সবুজ বাটন বা ‘এন্টার’ চাপা।
- এভাবে পর্যায়ক্রমে সব অংশ ঢোকানো।
- সবগুলো সফলভাবে ঢোকালে ব্যালান্স যোগ হবে এবং নতুন ট্যারিফ কার্যকর হবে।
নেসকো জানিয়েছে, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। টোকেন পাওয়া মানেই মিটারে সমস্যা হয়েছে—এমনটা নয়। তবে গ্রাহকরা বলছেন, হঠাৎ এত লম্বা টোকেন চালু করায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে যারা প্রযুক্তিতে খুব একটা দক্ষ নন, তাদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিলেটের গ্রাহকরা চান, কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে এবং সহজ পদ্ধতিতে সেবা নিশ্চিত করে। অন্যথায় এই গরমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।






