সিলেটে হামে ৬৭ মৃত্যু, ডেঙ্গু আতঙ্ক! সচেতনতায় র‌্যালি, হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার

সিলেটে হামে ৬৭ মৃত্যু, ডেঙ্গু আতঙ্ক! সচেতনতায় র‌্যালি, হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার - Surma Times | Sylhet News

সিলেটে হামে ৬৭ মৃত্যু, ডেঙ্গু আতঙ্ক! সচেতনতায় র‌্যালি, হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার - Surma Times | Sylhet Newsসুরমা টাইমস ডেস্কঃসিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৫৭ জন। এর মধ্যে বর্ষা শুরুর আগেই ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। চলতি বছর সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন।

স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩ জন। এর মধ্যে সিলেট নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন এবং হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেট জেলায় ৩ জন, সুনামগঞ্জে ৬ জন, হবিগঞ্জে ১৩ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। মৌলভীবাজারে এখনও কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রশিদ মুনির জানান, নতুন ভবনে ২০ শয্যার এই কর্নার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো রোগী ভর্তি না হলেও চিকিৎসার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন আছে।

**ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিসিকের র‌্যালি**

মঙ্গলবার সকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে নগরীতে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরভবন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে র‌্যালিটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার নগরভবনে এসে শেষ হয়। সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন।

র‌্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশাসক বলেন, “আমরা ডেঙ্গুমুক্ত সিলেট গড়তে চাই। জানুয়ারি থেকেই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করেছি। সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, অতীতের মতো এবারও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিলেটকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হবে। মসজিদের জুমার খুতবায়ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া হবে।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে শাস্তির পরিবর্তে সচেতনতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হবে। প্রতিটি বাড়িতে লার্ভা নিধনের ওষুধ নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, কোনো রোগী শনাক্ত হলে দ্রুত রেসপন্স টিম কাজ করবে এবং আশপাশের বাড়িগুলো পরীক্ষা করে লার্ভা ধ্বংস করবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অসচেতনতা ও মশা নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির কারণে ডেঙ্গু এখন শীতকালেও হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এখনই জমে থাকা পানি পরিষ্কার, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশারি ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

সিলেটবাসীর সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article