সিলেটে র‌্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যা! এক সপ্তাহেই চার্জশিট দাখিল

সিলেটে র‌্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যা! এক সপ্তাহেই চার্জশিট দাখিল - Surma Times | Sylhet News

সিলেটে র‌্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যা! এক সপ্তাহেই চার্জশিট দাখিল - Surma Times | Sylhet Newsসুরমা টাইমস ডেস্কঃ ঈদের আগে সিলেটের ঐতিহাসিক কিনব্রিজ এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশিট দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় চার্জশিট জমা দেওয়ায় সিলেটজুড়ে প্রশংসা চলছে পুলিশের দ্রুত তদন্তের।

গত ২২ মে দুপুরে কিনব্রিজের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। চিহ্নিত অপরাধী আসাদুল আলম বাপ্পি (২১/২২) মাদক বিক্রির সময় পুলিশের টহল দল দেখে পালানোর চেষ্টা করে। র‌্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য সিভিল ড্রেসে সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বাপ্পিকে ধরতে গেলে বাপ্পি উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর ইমন আচার্যের মৃত্যু হয়।

হত্যার পর বাপ্পি তোপখানা এলাকায় একটি বাসায় ঢুকে এক শিশুর গলায় চাকু ধরে জিম্মি করে। পরে পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে আটক করে। আসামি বাপ্পি পুলিশের কাছে এবং আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

মোগলটুলা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে বাপ্পি এলাকায় ত্রাসের নাম। মাদক বিক্রি, সেবন ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। তার বিরুদ্ধে বিশেষ আইনসহ চারটি মামলা রয়েছে এবং একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছে সে।

নিহত র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্যের ভাই সুজিত আচার্য বাদী হয়ে ২৩ মে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। কোতোয়ালি থানার এসআই মো. খবির উদ্দিন তদন্ত করে ২৯ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সঙ্গে খুনে ব্যবহৃত চাকুও জমা দেওয়া হয়েছে। আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেছেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী রোববার সন্ধ্যায় ব্রিফিংয়ে বলেন, ঘটনার সবকিছু পরিষ্কার। স্বীকারোক্তি ও প্রমাণ স্পষ্ট। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সিলেটে সাম্প্রতিক কয়েকটি অপরাধের পেছনে মাদকের প্রভাব রয়েছে। এজন্য মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। জালালাবাদের শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশিটও প্রক্রিয়াধীন।

কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির বলেন, বাপ্পি চিহ্নিত অপরাধী। ধরতে গিয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন। এ ঘটনা সিলেটবাসীকে নাড়া দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, কিনব্রিজসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের আখড়া ভাঙতে না পারলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে।

(৮ জুন, সর্বশেষ তথ্য অনুসারে)

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article