কলকাতাঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন খোলাখুলি রূপ নিয়েছে।
বুধবার বিধানসভার স্পিকার ৫৯ জন বিদ্রোহী বিধায়কের স্বাক্ষরিত চিঠি গ্রহণ করে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে তৃণমূলের পরিষদীয় দল।
বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এখন বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তৃণমূলের মোট ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন তার পক্ষে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিষেকের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ
নির্বাচনের পর থেকেই দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জমছিল। মমতা ডাকা একাধিক বৈঠকে নেতারা খোলাখুলি তার বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন। এরপরই শুরু হয় পদত্যাগ ও বিদ্রোহের ঘটনা।
বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, তারা আর অভিষেকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের পরামর্শদাতা হিসেবে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
মমতার অবস্থান দুর্বল
গত কয়েক দিনের ঘটনায় মমতার নেতৃত্বের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার ডাকা পরিষদীয় বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। আর ধর্মতলার সভায় হাজির ছিলেন মাত্র ৮ জন বিধায়ক।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার চেষ্টা করলেও স্পিকার তা গ্রহণ করেননি। উল্টো বিদ্রোহীদের স্বীকৃতি দিয়ে দলের বিভাজনে সিলমোহর পড়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যে দলের সব কমিটি ও সহযোগী সংগঠন ভেঙে দিয়ে পুরোপুরি আত্মসমীক্ষার ঘোষণা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ভাঙনকে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও এনসিপির ভাঙনের সঙ্গে তুলনা করছেন। এখন দেখার বিষয়, আসল তৃণমূল কংগ্রেস কোনটি হয়।






