
সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সিলেট নগরের চৌহাট্টায় নির্মিত ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল অবশেষে চালুর পথে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এই হাসপাতালটি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহ্যবাহী আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। নাগরিক সমাজের আপত্তি সত্ত্বেও তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা প্রকল্পটি এগিয়ে নেন। নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে শেষ হলেও এতদিন হাসপাতালটি চালু করা যায়নি, ফলে ভবনটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটে দ্রুতই ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। একই সঙ্গে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১২০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনাও চলছে বলে তিনি জানান।
হাসপাতালে কী আছে
হাসপাতাল ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি। ভবনটি ১৫ তলা হলেও আট তলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে।
নির্মাণকৃত কাঠামোতে বেসমেন্টে কার পার্কিং, প্রথম তলায় টিকিট কাউন্টার ও ওয়েটিং রুম, দ্বিতীয় তলায় আউটডোর ও কনসালট্যান্ট চেম্বার, তৃতীয় তলায় ডায়াগনস্টিক বিভাগ, চতুর্থ তলায় কার্ডিয়াক ও জেনারেল ওটি, আইসিসিইউ ও সিসিইউ, পঞ্চম তলায় গাইনি, অপথালমোলজি, অর্থোপেডিক্স ও ইএনটি বিভাগ রাখা হয়েছে। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন রয়েছে।
হাসপাতালে ১৯টি আইসিইউ বেড, ৯টি সিসিইউ বেড এবং ৪০টি কেবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
হাসপাতালটি নির্মাণ শেষ হলেও কে এটি পরিচালনা করবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয় নাকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এ কারণে গণপূর্ত বিভাগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
আগের মন্তব্যেও সমালোচনা ছিল
এর আগে এ হাসপাতাল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রী বলেছিলেন, শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও এটি কেন করা হয়েছে, তা অনেকেই জানেন না। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা না করেই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
সিলেটে নতুন প্রত্যাশা
গত ২০ এপ্রিল তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। আর রোববার সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সংসদে এক আলোচনা সভায় আবারও হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বহু প্রতীক্ষিত এই হাসপাতাল চালু হলে সিলেট নগর ও আশপাশের এলাকার স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আসবে।






