ঢাকা, ১৪ অক্টোবর: বিএনপি কর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে (২৮) নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদকে (৭৮) গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আবু সালেহ তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আবেদন মঞ্জুরের পক্ষে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় মহাসমাবেশ উপলক্ষে কলাবাগান এলাকায় প্রচার-প্রচারণা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন দলটির কর্মী মুশফিকুর রহমান আবির। পথে আসামিরা তাকে বলপূর্বক তুলে নিয়ে একটি ট্যানারির গোডাউনে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা এবং তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পরবর্তী সময়ে ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ চলাকালে হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। আসামি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একযোগে সরাসরি টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং শত শত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে বহু নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। আবিরও গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনায় মুশফিকুর রহমান আবির নিজেই বাদী হয়ে ৯৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ।





