সিলেট, ৬ সেপ্টেম্বর: সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমায় পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে সেলাই রেঞ্চ দিয়ে মাথায় আঘাত করে এক যুবককে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর নিহতের বস্তাবন্দী লাশ ফেলে রাখা হয় কদমতলী এলাকার ফুটপাতে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম মোহাম্মদ লাইছ আহমেদ। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া এলাকার আঙ্গুর মিয়ার ছেলে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, দক্ষিণ সুরমা থানা সংলগ্ন কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’ ও ‘উদার পরিবহন’ বাস কাউন্টারের সামনের ফুটপাতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করার সময় একটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান। বস্তাটি সরানোর চেষ্টা করলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে একটি মানুষের পা। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দিলে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ, ফাঁড়ি পুলিশ এবং পিবিআইয়ের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে।
তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে কমিশনার বলেন, মূল অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেয় পুলিশ। এতে দেখা যায়, বিকেলের দিকে একটি ভ্যান গাড়িতে করে বস্তাটি এনে ওই ফুটপাতে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল। এই সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভ্যানচালককে শনাক্ত করে হেফাজতে নেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার খালপার এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে থাকা মূল অভিযুক্ত দোকান মালিক শামছু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শামছু মিয়ার মূল বাড়ি হবিগঞ্জে।
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা ঘটনার বিবরণ দিয়ে কমিশনার বলেন, নিহত লাইছ আহমেদ শামছু মিয়ার কাছে আগে থেকেই কিছু টাকা পাওনা ছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা বেশ কয়েকজন বন্ধু মিলে একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আড্ডার একপর্যায়ে লাইছ পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে গালিগালাজ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শামছু। এক পর্যায়ে দোকানে থাকা একটি ভারী সেলাই রেঞ্চ দিয়ে তিনি লাইছের মাথায় সজোরে আঘাত করেন, যাতে ঘটনাস্থলেই লাইছের মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শামছু তার অপর দুই বন্ধু মামুন ও সাজুকে সঙ্গে নেন। এই তিনজন মিলে লাশটি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভ্যান গাড়িতে করে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে আসেন। পরে শামছু মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী মামুন ও সাজুকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, গ্রেপ্তার তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এই ঘটনা আরেকবার সামনে নিয়ে এলো তুচ্ছ ঘটনা কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে চরম সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, তারই এক নির্মম দৃষ্টান্ত। বন্ধুত্বের সম্পর্কের ভেতরেও যে পাওনা-দেনা নিয়ে বিরোধ কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই হত্যাকাণ্ড তারই প্রমাণ হয়ে রইল।





