শায়েস্তাগঞ্জে কাগজপত্রহীন ফার্নিচারবোঝাই ট্রাক আটক, পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ

শায়েস্তাগঞ্জে কাগজপত্রহীন ফার্নিচারবোঝাই ট্রাক আটক, পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ - Surma Times | Sylhet News

শায়েস্তাগঞ্জে কাগজপত্রহীন ফার্নিচারবোঝাই ট্রাক আটক, পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ - Surma Times | Sylhet Newsহবিগঞ্জ, ৩০ আগস্ট: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ফরেস্ট চেকস্টেশনে অবৈধ ফার্নিচার বহনের অভিযোগে একটি বড় ট্রাক আটক করেছে বন বিভাগ। সোমবার ভোররাতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের লস্করপুর ফরেস্ট চেকস্টেশনে অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে চলছিল নিয়মিত টহল। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ফার্নিচারবোঝাই ট্রাকটি চেকস্টেশনে পৌঁছালে দায়িত্বরত স্টাফরা সেটি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু থামার বদলে ট্রাকটি দ্রুতগতিতে হবিগঞ্জ বাইপাসের দিকে পালানোর চেষ্টা করে।

পালানো অবশ্য শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। চেকস্টেশনের স্টাফরা মোটরসাইকেলে করে ট্রাকটির পিছু নেন, তাড়া করে শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের সামনে গিয়ে অবশেষে তা আটক করতে সক্ষম হন তারা। ঢাকা মেট্রো-ট-২২-১৪৪০ নম্বরের এই ট্রাকে ত্রিপাল দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল বক্সখাট, সোফাসেট, ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, ওয়াল শোকেসসহ বিভিন্ন ধরনের ফার্নিচার ও কাঠজাতীয় মালামাল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এসব মালামাল সিলেট থেকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। তবে তল্লাশির সময় ফার্নিচার ও কাঠজাতীয় মালামালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশনায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়ামাত্র আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বন উজাড়কারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ, কাঠ ও বাঁশ পাচারের বিরুদ্ধে বন বিভাগের তৎপরতা চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক ট্রাক ও ফার্নিচার শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসে হেফাজতে নেওয়া হয়। বন বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বন বিভাগের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ ও বনজ সম্পদ পাচার বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সম্পদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article