
নবীগঞ্জ, ১৫ আগস্ট: ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো বর্বর গণহত্যার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ গণকবর স্মৃতিসৌধ। ৫৪ বছর পরও স্মৃতিসৌধটি মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াবহ দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মনসা পূজা উপলক্ষে নবীগঞ্জ বাজারে মানুষের ব্যাপক সমাগম ছিল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নবীগঞ্জ বাজার, কানাইপুর শাখা বরাক নদীর তীরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, হানাদার বাহিনী নিরীহ মানুষদের ধরে এনে তৎকালীন নবীগঞ্জ থানার সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায়। পরে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতদের মরদেহ বর্তমান সদর ইউনিয়ন তহশিল অফিসের পেছনের জঙ্গলে গণকবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের মতে, ওই দিনের হত্যাকাণ্ডে প্রায় ২৮ জন নিরীহ মানুষ শহীদ হন। তবে তাঁদের মধ্যে অনেকের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
গণকবরের স্মৃতিফলকে ১০ শহীদের নাম সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁরা হলেন সাবাজ মিয়া, সুরেশ চৌধুরী, রাজ কুমার বণিক, শৈলেন্দ্র বণিক, গজেন্দ্র দেব, উপেন্দ্র দেব, রাই মোহন শীল, গোবিন্দ শীল, কার্তিক নমশূদ্র ও প্যারী মোহন পাল। স্মৃতিফলকে নাম না জানা আরও অনেক শহীদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় নবীগঞ্জ পৌরসভার প্রথম পরিষদ। পরিষদের উদ্যোগে গণকবরটি শনাক্ত করে সেখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরীর উদ্যোগে ১৯৯৯ সালের ৮ আগস্ট স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে ২০০০ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী স্মৃতিসৌধটি উদ্বোধন করেন।
নবীগঞ্জ গণকবর স্মৃতিসৌধ এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্থানীয় মানুষের আত্মত্যাগের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। প্রতি বছর ১৫ আগস্ট এলেই এই স্থানটি মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতার জন্য এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকেও কত বড় মূল্য দিতে হয়েছিল।






