মৌলভীবাজার, ১৭ জুলাই: টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানি কমতে শুরু করলেও চার উপজেলায় প্রায় ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট মেরামত ও পুনর্নির্মাণে প্রায় ২৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বন্যায় জেলার অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে, কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও পানির স্রোতে সড়কের অংশ বিলীন হয়ে গেছে।
কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলায় এলজিইডির অধীন বিভিন্ন সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় এসব সড়ক ভেঙে গেছে এবং অনেক সড়ক এখন যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ৯৫ কিলোমিটার সড়কের পাশাপাশি বিভিন্ন সেতু ও কালভার্টও ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি, কারণ অনেক স্থানে পানি রয়ে গেছে।
বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বন্যায় ঘরবাড়ির পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
কমলগঞ্জের বাসিন্দা ধীরেন্দ্র দেবনাথ বলেন, “ধলাই নদীর ভাঙনে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের বেহাল অবস্থা। বিভিন্ন জায়গায় সড়ক ভেঙে গেছে এবং শত শত গর্ত তৈরি হয়েছে।”
এলজিইডির মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, “এলজিইডির প্রায় ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ হিসাব পেতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগবে।”





