শান্তিগঞ্জে সিএনজিতে ২৪ হাজার টাকা, এনআইডি ও ওষুধভর্তি ব্যাগ ফেলে এসে সর্বস্বান্ত দিনমজুর
সুনামগঞ্জ, ১০ জুলাই: মাত্র ২৪ হাজার টাকা। অনেকের কাছে এটি সামান্য অঙ্ক হলেও শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের হাঁসকুড়ি গ্রামের দিনমজুর আলী আহমদ ওলীর কাছে এই টাকাই ছিল নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্বল। ওই অর্থ দিয়ে জাল, দড়ি ও নৌকা কিনে জীবিকার পথ তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল তার। পাশাপাশি কিছু পুরোনো ঋণও শোধ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একটি অসাবধানতায় মুহূর্তেই ভেঙে গেছে তার সব স্বপ্ন।
আলী আহমদ ওলী হাঁসকুড়ি গ্রামের মৃত আবদুল জাহেরের ছেলে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভুলে রেখে আসেন স্ত্রীর ব্যানিটি ব্যাগ। ওই ব্যাগেই ছিল নগদ ২৪ হাজার টাকা, স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং হাসপাতাল থেকে আনা এক মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ।
আলী আহমদ ওলী জানান, স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। স্ত্রীর নামে একটি ব্যাংক থেকে ঋণ তুলে ৫ হাজার টাকা আগের দেনা পরিশোধ করেন। গাড়িভাড়ার জন্য আরও ১ হাজার টাকা আলাদা করে রেখে বাকি ২৪ হাজার টাকা স্ত্রীর ব্যাগে রাখা ছিল। উজানীগাঁও পয়েন্ট থেকে সিএনজিতে উঠে পাগলা বাজারে নামার সময় কোলে থাকা সাত মাসের শিশু কান্না শুরু করলে তিনি তাড়াহুড়ো করে নেমে যান। পরে বাড়ির পথে যাওয়ার সময় বুঝতে পারেন, ব্যাগটি সিএনজিতেই রেখে এসেছেন।
কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওলী। তিনি বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এই টাকা দিয়ে জাল, দড়ি আর নৌকা কিনে কাজ শুরু করতাম। এখন ঋণ শোধ করব কীভাবে, সংসার চালাব কীভাবে, স্ত্রীর চিকিৎসাই বা করাব কী দিয়ে?”
অসহায় এই দিনমজুর সমাজের সহৃদয় মানুষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, কেউ যদি তার ব্যাগ বা টাকাগুলোর সন্ধান পান, যেন তা ফিরিয়ে দেন। তিনি বলেন, তিনি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন এবং মনে করবেন এগুলো যেন তিনি ভিক্ষা হিসেবে পেয়েছেন। যোগাযোগ নম্বর: ০১৬২৪-০৫৯৬৯১।
এ বিষয়ে পাগলা বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের ম্যানেজার আবু বকর বলেন, ঘটনাটি শুনে তিনি খুবই মর্মাহত। বিষয়টি সব চালককে জানানো হবে। কেউ ব্যাগটি পেয়ে থাকলে যেন দ্রুত যোগাযোগ করেন-এমন অনুরোধও তিনি জানান।





