ঢাকা, ৪ জুলাই – কক্সবাজারগামী নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে ফের ঢাকায় জরুরি অবতরণ করেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ফ্লাইটটিতে যাত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ভিআইপি যাত্রীবাহী একটি ফ্লাইটে এমন বিভ্রাটের পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে এবং এটি নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি পরিকল্পিত কোনো নাশকতার চেষ্টা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ফ্লাইটটি (ভিকিউ-৯৩৫) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের প্রায় ১৫ মিনিট পরই ল্যান্ডিং গিয়ারে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে—গিয়ার স্বাভাবিকভাবে ভেতরে ওঠেনি। বিষয়টি জানাজানি হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইলট বিমানটি কক্সবাজারে না নিয়ে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন এবং ককপিট থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
জরুরি অবতরণের অনুমতি পাওয়ার পর পাইলট অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট আকাশে চক্কর দেন। এই সময়ের মধ্যে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি অবতরণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। উড্ডয়নের প্রায় ৪৫ মিনিট পর ফ্লাইটটি নিরাপদে ঢাকায় অবতরণ করলে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
ফ্লাইটের যাত্রী উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে জানান, উড্ডয়নের ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে এবং ক্যাপ্টেন বারবার চেষ্টা করেও ল্যান্ডিং গিয়ার প্রত্যাহার করতে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ক্যাপ্টেনের ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে তিনি সঠিক মনে করেন। তবে ঘটনার সময় বিমানের ভেতরে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে শিশুদের কান্নাকাটি ও যাত্রীদের উদ্বেগে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে হুমায়ুন কবির বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর পুরোনো উড়োজাহাজের ফিটনেস পরীক্ষা আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
এদিকে নভোএয়ারের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উড্ডয়নের পর ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটির কারণেই ফ্লাইটটি কক্সবাজারে না গিয়ে ঢাকায় নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাকে বহনকারী ফ্লাইটে এমন বিভ্রাটের পর সিভিল এভিয়েশন অথরিটিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। ফ্লাইট উড্ডয়নের আগে প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না এবং সব নিয়ম মেনে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনাকারী বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর উড়োজাহাজের মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হবে, এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত।





