বঙ্গবীর ওসমানীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার দাবি

বঙ্গবীর ওসমানীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার দাবি - Surma Times | Sylhet News

বঙ্গবীর ওসমানীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার দাবি - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ১ জুলাই: মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়ে আবারও জনপরিসরে আলোচনা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন “ওসমানী স্মৃতি পরিষদ”-এর প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুর রহমান লায়েক। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও তাঁর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি বলে দাবি করে এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর নেতৃত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, ১৯৭১ সালে তাঁর দক্ষ নেতৃত্ব, কৌশলগত দূরদর্শিতা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার ফলে মুক্তিবাহিনী একটি সুসংগঠিত শক্তিতে রূপ নেয়। তাঁর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে অর্জিত হয় দেশের স্বাধীনতা। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাঁর অবদান পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি পায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হওয়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভিন্নমত পরিলক্ষিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে করে মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক ইতিহাস মূল্যায়নে বিভাজন তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

প্রতিক্রিয়া হিসেবে মাহমুদুর রহমান লায়েক জানান, মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এটি সমগ্র জাতির অর্জন। তাই যাঁরা এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের অবদান দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “বঙ্গবীর ওসমানী যেমন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তেমনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডার হিসেবে জাতীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেন।”

তিনি আরও জানান, গত ১৬ বছর ধরে “ওসমানী স্মৃতি পরিষদ”-এর মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্মারকলিপি প্রদান, সেমিনার, মানববন্ধন ও আলোচনা সভা। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হলেও পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ নতুন করে আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় বীরদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ লক্ষ্যে কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীকে দেশের একমাত্র “বঙ্গবীর” এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে সরকারি গেজেট প্রকাশ, তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন, শিক্ষাক্রমে তাঁর জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্তি, সিলেটের ওসমানী জাদুঘরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, তাঁর নামে একটি সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ।

পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। এই ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সমাপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর অবদান কেবল অতীতের গৌরব নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর প্রতি যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article