ঢাকা প্রতিবেদকঃ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। গত বছর (২০২৫ সালে) এই আমানত ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডে পৌঁছেছে।
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সাল নাগাদ সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও ব্যাংকের আমানত ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে দাঁড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২,৭৬৩ কোটি টাকা (এক সুইস ফ্রাঁ = ১৫২ টাকার বেশি)। এটি আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি। শুধু ২০২৫ সালেই জমা পড়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি।
রেকর্ডের তুলনা
এর আগে সর্বোচ্চ আমানত ছিল ২০২১ সালে— ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ৮,৩৩৩ কোটি টাকা)। চার বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালের ৫৯০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতই এই উল্লম্ফনের মূল কারণ। ব্যাংকগুলোর আমানত ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৮২২.৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছে। মোট আমানতের ৯৮.৬ শতাংশই বাংলাদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে, যা আগের বছরের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের আমানত সামান্য কমে ১১.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমেছে।
অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থ পাচার কমে আসবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সুইস ব্যাংকের এই তথ্য সেই আশায় ছেদ টেনেছে। তাঁরা মনে করেন, এটি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ পাচার বন্ধ এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের এই ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের তথ্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।





