২ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় কেলেঙ্কারি? ভুয়া বিল, মালামাল গায়েব, তদন্তে দুদক

২ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় কেলেঙ্কারি? ভুয়া বিল, মালামাল গায়েব, তদন্তে দুদক - Surma Times | Sylhet News
২ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় কেলেঙ্কারি? ভুয়া বিল, মালামাল গায়েব, তদন্তে দুদক - Surma Times | Sylhet News
২ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় কেলেঙ্কারি

ছাতক প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নের নামে নেওয়া ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া বিল উত্তোলন, সরকারি মালামাল আত্মসাৎ এবং ঠিকাদার-প্রকৌশলী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অনিয়মের খবর প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসে একটি প্রভাবশালী চক্র। গত ১৪ জুন সিলেটে প্রকল্প কার্যালয়ে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অভিযোগ মোকাবিলা, তথ্য গোপন এবং তদন্ত প্রভাবিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ তামার তার, ক্যাবল, ট্রান্সফরমার, লোহার খুঁটিসহ বিপুল পরিমাণ মালামালের সঠিক হিসাব নেই। বিভিন্ন এলাকায় কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই গুদাম থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু সরঞ্জাম বিক্রি ও পাচারের অভিযোগও উঠেছে।

মাঠপর্যায়ের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। ছাতক বিউবো গ্রিড থেকে রাউলী সাবস্টেশন পর্যন্ত ৩৩ কেভি লাইনের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। প্রায় ৩ হাজার ৬০০টি খুঁটি বসানোর কথা থাকলেও বসানো হয়েছে মাত্র কয়েকশ’, আর অনেক খুঁটি সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এছাড়া একই কাজের জন্য একাধিকবার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প অফিস ও বিভাগীয় দপ্তর উভয় স্থান থেকেই বিল নেওয়া হয়েছে বলে দাবি, ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ ও ট্রান্সফরমার স্থাপনের নামেও গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সংযোগের জন্য ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং ট্রান্সফরমারের জন্য ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এভাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প অনুমোদন পায়। পরিকল্পনায় ছিল হাজার কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণ, সাবস্টেশন স্থাপন ও সংস্কারসহ বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন। তবে বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হক জিয়া বলেন, সব সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী হয়েছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সচেতন মহল বলছে, পুরো প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, কাজের বাস্তব অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। দুদকের তদন্তে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে এলে শুধু এই প্রকল্প নয়, বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়মও সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article