সুরমা টাইমস ডেস্কঃ পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল থামেনি। মাত্র ১৫ দিনে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১২৯৪ জন আহত হয়েছেন। রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৪৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিগত ঈদের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ৩.৯৫ শতাংশ, নিহত ৩.০৭ শতাংশ এবং আহত ৯.৪৭ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
রবিবার (৭ জুন ২০২৬) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “প্রতিবছর ঈদে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সরকারের সাময়িক তৎপরতা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ঈদযাত্রায় মানুষের জীবন বাঁচাতে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা জরুরি।”
মোটরসাইকেলই সবচেয়ে ভয়ংকর
প্রতিবেদন অনুসারে, এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৩৯ শতাংশ। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু এবং ৬৬ জন শিক্ষার্থী।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। বৃষ্টিতে সড়কে গর্তের সৃষ্টি, ভাঙাচোরা রাস্তা, বেপরোয়া গতি, একজন চালক দিয়ে বিরামহীন যান চালানো, ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাক চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রীবহন এবং ছাদে যাত্রী নেওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচলকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সমিতির সুপারিশ
সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি জরুরি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং উন্নত বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা
- প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু
- চালকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিতকরণ
- ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদ
- জাতীয় মহাসড়কে স্টার মানের সড়ক নিরাপত্তা করিডোর তৈরি
- মহাসড়ক থেকে ছোট যানবাহন ক্রমান্বয়ে সরিয়ে নেওয়া
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের সহ-সভাপতি মোঃ মহসিন, যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে এমন প্রাণহানি দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলছেন, আর শুধু প্রতিবেদন তৈরি নয়, এবার বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। সড়ক দুর্ঘটনা নির্মূলে সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, না হলে প্রতি ঈদে এই রক্তপাত চলতেই থাকবে।





